দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ চুক্তির লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষের বাণিজ্য বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমানো। খবর রয়টার্স।
সমঝোতা অনুযায়ী, ইইউ থেকে ভারতে আমদানীকৃত মোট বাণিজ্যিক পণ্যের ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে শুল্ক হ্রাস বা বাতিল হবে। এতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ৪০০ কোটি ইউরো বা ৪৭৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে।
ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী সাত বছরে ভারত থেকে ইইউতে আমদানীকৃত পণ্যের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশের শুল্ক কমবে। এর মধ্যে সামুদ্রিক পণ্য, চামড়া ও টেক্সটাইল পণ্য, রসায়নিক, রাবার, ব্যবহারিক ধাতু, রত্ন ও গহনার ওপর শূন্যে নামবে শুল্ক।
তবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাইরে থাকছে কৃষিজ কিছু পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে সয়াবিন, গরুর মাংস, চিনি, চাল ও দুগ্ধজাত পণ্য।
গত আগস্ট থেকে ভারতীয় আমদানীকৃত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হচ্ছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রমুখী ভারতীয় পণ্য পরিবহন কমেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে সেই শুল্ক আরো বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন এসব উদ্যোগের মুখে ধারাবাহিকভাবে একাধিক দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে জোর দিয়েছে ভারত।
ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) ইইউ ও ভারতের মধ্যে বড় একটি সমঝোতা হয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে এবং একে “মাদার অব অল ডিলস” বলা হচ্ছে। ১৪০ কোটি ভারতীয় ও ইইউ দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষের জন্য বড় সুযোগ এনে দেবে এ চুক্তি।’
ভারত-ইইউ শীর্ষ বৈঠক উপলক্ষে গতকাল নয়াদিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডর লিয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। এদিন উরসুলা ভন ডর লিয়েন বলেন, ‘ইউরোপ ও ভারত আজ ইতিহাস রচনা করছে। এটি কেবল শুরু মাত্র।’
নতুন দিল্লির সঙ্গে সমঝোতার আগে দক্ষিণ আমেরিকার ব্লক মার্কোসুরের সঙ্গে চুক্তি করেছিল ইইউ। গত বছর ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করে এ জোট। একই সময় যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করে নয়াদিল্লি।
গত বছর মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ভারত ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্যের আকার ছিল ১৩ হাজার ৬৫০ কোটি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের আকার ছিল যথাক্রমে ১৩ হাজার ২০০ কোটি ও ১২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, আইনি যাচাই শেষে পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে ভারত-ইইউ চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হবে।